জরায়ুমুখ ক্যান্সার; নীরব ঘাতকের নাম। এটি সম্পর্কে জানুন, সচেতন হোন
ইনসেপ্টা বাংলাদেশে প্রথমবারের মত নিয়ে এসেছে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন যা এইচপিভি ১৬ এবং ১৮ প্রতিরোধক
ইনসেপ্টা বাংলাদেশে প্রথমবারের মত নিয়ে এসেছে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন যা এইচপিভি ১৬ এবং ১৮ প্রতিরোধক
জরায়ুমুখ ক্যান্সার:
জরায়ুমুখ ক্যান্সার বা জরায়ুর ক্যান্সার (ইংরেজি: Cervical cancer) নারীদের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। সাধারণত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নারীরা স্বাস্থ্য বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন না বলে এই রোগের বিস্তার বেশি। সার্ভিক্স হচ্ছে জরায়ু এর নিচের, সরম্ন অংশ, যা ভ্যাজাইনা ও জরায়ুর উপরের অংশ কানেক্ট করে। যখন ক্যান্সার শুরম্ন হয় সার্ভিক্সে বা জরায়ুমুখে একে সারভাইকাল বা জরায়ুমুখ ক্যান্সার বলা হয়। বিশ্বব্যাপী মহিলাদের প্রচলিত ক্যান্সারের মধ্যে এটি চতুর্থ সর্বাধিক সাধারণ ক্যান্সার। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার অনুসারে, ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি বাংলাদেশী নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রমন্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বছরে নতুন আক্রমন্ত ১৭৬৮৬ এবং মৃত্যু ১০৩৬২
কেন হয় এই অসুখ?
জরায়ুমুখ বা সার্ভিক্স ক্যান্সারের অন্যতম নিয়ামক হচ্ছে ক্যান্সারবাহী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) । Persistent এইচ.পি.ভির সংক্রমনে জরায়ু মুখের ক্যান্সার হয়ে থাকে এবং এই সংক্রমন ক্যাান্সারে পরিণত হতে ১০-২০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।১০০ এরও বেশি ধরণের এইচপিভি ভাইরাস রয়েছে, যার বেশিরভাগই জরায়ুমুখ ক্যান্সারের জন্য অতোটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে এইচপিভি-১৬, এইচপিভি ১৮, এইচপিভি-৬, এইচপিভি-১১ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি):
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) একটি সাধারণ ভাইরাস যা অধিকাংশ নারী তাদের জীবনের কোনও না কোনও সময়ে সংক্রমিত হয়। ১০০ এরও বেশি ধরণের এইচপিভি ভাইরাস রয়েছে, যার বেশিরভাগই জরায়ু ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দ্বারা ১৮-২৪ মাসের মধ্যে জরায়ু প্রায় সব এইচপিভি ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়ে যায়। জরায়ুতে এইচপিভি ভাইরাস দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, জরায়ু কোষে পরিবর্তনের সূত্রপাত হয় এবং ধীরে ধীরে তা ক্যান্সারে রূপ নেয়। জরায়ুমুখ ক্যান্সার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এইচপিভি ১৬ এবং এইচপিভি ১৮ এর সংক্রমণের কারণে হয়।
লক্ষণ বা উপসর্গ চিনুন:
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনেকেই রোগটি হয়েছে বলে বুঝতে পারে না, কারণ কোনও লক্ষণই থাকে না। প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট করতে গিয়ে ধরা পড়ে। কিছু সাধারণ লক্ষণ বা উপসর্গগুলো হল
ঋতুচক্রের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হয়।
অস্বাভাবিক বা গন্ধযুক্ত ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জও হতে পারে।
ব্যক্তিগত মুহূর্তের পর রক্তপাত হতে পারে।
ঋতুবন্ধের পর রক্তপাত হয়।
তলপেটে, কোমরে ব্যথা অনুভব হয়
ঝুঁকি কাদের বেশি ?
আগে থেকে প্রতিরোধ করুনঃ
ভ্যাকসিন:
জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের প্রাথমিক এবং প্রধান পদক্ষেপ হল ভ্যাকসিন। এটি একমাত্র ক্যান্সার যা ভ্যাকসিনের এর মাধ্যমে খুব সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই জন্য WHO, CDC, ACIP ৯ বছরের পর থেকে প্রতি মেয়েদের জন্য এই ভ্যাকসিন সুপারিশ করেছে বিশেষভাবে বয়সের প্রথমদিকেই।
০.৫ মিলি এর সাধারণত ডোজ ৩টি- ০, ১, ৬ মাস; গাইডলাইন অনুসারে ৯-১৪ বছর পর্যন্ত ২টি ডোজ দেয়া যেতে পারে- ০, ৬ মাস। এছাড়াও WHO অনুসারে, ৯-১৪ বছর পর্যন্ত ১টি ডোজ এবং ১৫ বছরের উরধে ২টি ডোজ দেয়া যেতে পারে
এটি মাংসপেশিতে দেয়া হয়।
স্ক্রিনিংঃ
প্যাপ / ভায়া টেস্ট/ এইচপিভি টেস্টঃ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যান্সার আগে থেকে ধরা যায় না, ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য স্ক্রিনিং করতে হয়। প্যাপ টেস্ট করে রোগটিকে ধরা গেলে চিকিৎসা করে পুরোপুরি সারিয়ে দেওয়া যায়। এই পরীক্ষার জন্য ভর্তি হওয়ারও দরকার নেই, আউটডোর ক্লিনিকেই করা যায়। এই পরীক্ষায় জরায়ুর মুখ থেকে কিছুটা রস সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয় এবং জরায়ুরমুখের কোষগুলোর পরিবর্তন বা প্রি ক্যানসারাস স্টেজ স্ক্রিনিং করা হয়। সে রকম কিছু পাওয়া গেলে, কতটা অ্যাবনর্মালিটি রয়েছে, তার উপর নির্ভর করে চিকিৎসা নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২৫-৬৫ বছর পর্যšত্ম মহিলাদের তিন বছর অšত্মর প্যাপ টেস্ট করানো উচিত। জরায়ুর মুখ ক্যান্সারের ঝুঁকি নির্ণয়ের আরেকটি পদ্বতি এইচপিভি টেস্টিং।
চিকিৎসার ধরন:
রোগ ছড়াচ্ছে কি না সে দিকে কড়া নজর রাখতে হবে, নিয়মিত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। কোন স্টেজে রোগ আছে, তার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পদ্বতি নির্ধারণ করা হয়। প্রথমে সারভিক্সের বাইরে, তলপেটের অন্যত্র, ইউটেরাস- ওভারিতে ছড়িয়েছে কি না, রোগ কতটা অ্যাডভান্সড পর্যায়ে রয়েছে তা দেখা হয়। রোগটি অ্যাডভান্সড স্টেজে অনেক দিন রেখে দিলে সারভিক্স থেকে জরায়ু, ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব, বস্নাডার ও তলপেটের অন্য জায়গায়, এমনকি পেটের উপরের অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে। খুব প্রাথমিক স্টেজে, সারভিক্সের ভিতরেও যদি না ছড়িয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ক্যান্সারের জায়গা বা তার আশপাশের জায়গা সার্জারি করে বাদ দেওয়া হয়। আর একটু বেশি ছড়ালে ইউটেরাস, ওভারি ইত্যাদি বাদ দিতে হতে পারে। অনেকটা ছড়িয়ে গেলে বড় সার্জারি করতে হয়। সার্জারি করার পর্যায় ছাড়িয়ে গেলে কেমোথেরাপি, রেডিয়োথেরাপির সাহায্য নিতে হয়।
Call center number: 0967-8300300